চুল আঁচড়াতে গিয়ে বা গোসলের পর হাতে চুল দেখে অনেকেই ভাবেন, চুল পড়া শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু হাতে আসা প্রতিটি চুলই যে গোড়া থেকে পড়ে গেছে, এমন নয়। অনেক সময় চুল মাঝখান থেকেও ভেঙে যায়।
চুল পড়া আর চুল ভেঙে যাওয়া দেখতে একই রকম মনে হলেও আসলে দুটো আলাদা সমস্যা। কোথা থেকে চুলটি আলাদা হচ্ছে, চুলের অবস্থা কেমন এবং চুলের ঘনত্বে কোনো পরিবর্তন হচ্ছে কি না, এসব খেয়াল করলেই কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়।
চুল পড়া আর চুল ভেঙে যাওয়ার সহজ পার্থক্য
সহজভাবে বললে, চুল পড়লে সাধারণত চুল গোড়া থেকে উঠে আসে। আর চুল ভেঙে গেলে মাঝখান বা ডগা থেকে একটি অংশ আলাদা হয়ে যায়।
তাই হাতে আসা চুলটি একটু ভালো করে দেখুন। চুলটি যদি পুরো লম্বা হয় এবং এক প্রান্তে গোড়ার অংশ দেখা যায়, তাহলে সেটি চুল পড়ার অংশ হতে পারে। আর ছোট ছোট, অসমান দৈর্ঘ্যের চুল বেশি দেখা গেলে চুল ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
চুল পড়ার লক্ষণ কী?
প্রতিদিন কিছু চুল ঝরে যাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু আগের তুলনায় হঠাৎ বেশি চুল পড়তে শুরু করলে বিষয়টি খেয়াল করা দরকার।
চুল পড়ার কিছু সাধারণ লক্ষণ হলো:
-
আঁচড়ানোর সময় অনেক বেশি চুল উঠে আসা
-
গোসলের পর আগের তুলনায় বেশি চুল ঝরে পড়া
-
চুলের ঘনত্ব কমে যাওয়া
-
সিঁথি আগের চেয়ে চওড়া দেখানো
-
মাথার কোনো নির্দিষ্ট জায়গা পাতলা হয়ে যাওয়া
চুল পড়ার কারণ সবার ক্ষেত্রে এক নয়। মানসিক চাপ, অসুস্থতা, হরমোনের পরিবর্তন, বংশগত কারণ বা চুলের গোড়ায় অতিরিক্ত টান এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
চুল ভেঙে যাওয়ার লক্ষণ কী?
চুল ভেঙে গেলে সাধারণত চুল গোড়া থেকে পড়ে না। চুলের মাঝখান বা আগা দুর্বল হয়ে ভেঙে যায়।
এক্ষেত্রে আপনি দেখতে পারেন:
-
ছোট ছোট চুল
-
অসমান দৈর্ঘ্যের চুল
-
চুলের আগা ফেটে যাওয়া
-
চুল রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে যাওয়া
-
Frizz বেড়ে যাওয়া
-
চুলের ডগা সহজে জট পাকানো
অনেক সময় চুল বাড়তে থাকে, কিন্তু মাঝখান বা আগা থেকে বারবার ভেঙে যাওয়ার কারণে চুলের দৈর্ঘ্য বাড়ছে না বলে মনে হয়।
চুল পড়ার সাধারণ কারণ
চুল পড়ার পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। যেমন:
মানসিক চাপ
দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ কিছু মানুষের চুল পড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
অসুস্থতা
জ্বর বা অসুস্থতার পর কিছু সময়ের জন্য চুল বেশি ঝরতে পারে।
হরমোনের পরিবর্তন
শরীরে হরমোনের পরিবর্তনের সময় চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বংশগত কারণ
পরিবারে চুল পাতলা হওয়ার ইতিহাস থাকলেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
চুলে অতিরিক্ত টান
প্রতিদিন খুব শক্ত করে চুল বাঁধলে চুলের গোড়ায় চাপ পড়তে পারে।
তাই চুল পড়ার সমস্যা হলে শুধু Shampoo পরিবর্তন করলেই সবসময় সমাধান নাও হতে পারে। আগে কারণটি বোঝা দরকার।
চুল ভেঙে যাওয়ার কারণ কী?
চুলের বাইরের অংশ দুর্বল হয়ে গেলে চুল সহজেই ভেঙে যেতে পারে। এর পেছনে থাকতে পারে:
-
অতিরিক্ত Heat Styling
-
বারবার চুলে Colour বা Chemical Treatment করা
-
চুল খুব শুষ্ক হয়ে যাওয়া
-
ভেজা চুলে জোরে আঁচড়ানো
-
খুব শক্ত করে চুল বাঁধা
-
তোয়ালে দিয়ে জোরে চুল ঘষা
-
চুলের প্রয়োজন অনুযায়ী যত্ন না নেওয়া
চুলের ধরন অনুযায়ী Shampoo বেছে নেওয়ার পাশাপাশি চুলের দৈর্ঘ্য ও ডগার যত্ন নেওয়াও জরুরি।
চুল পড়ছে নাকি ভেঙে যাচ্ছে, কীভাবে বুঝবেন?
নিজের চুলের দিকে খেয়াল করার সময় কয়েকটি বিষয় দেখুন।
চুলটি কি গোড়া থেকে উঠছে?
চুলটি যদি পুরো দৈর্ঘ্যের হয় এবং গোড়ার দিক থেকে উঠে আসে, তাহলে চুল পড়ার সম্ভাবনা বেশি।
ছোট ছোট চুল কি বেশি দেখা যাচ্ছে?
চুলের বিভিন্ন জায়গায় ছোট ছোট চুল দেখা গেলে চুল ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে।
চুলের আগা কি শুষ্ক ও ফাটা?
চুলের ডগা শুষ্ক বা ফাটা থাকলে চুল ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে।
সিঁথি কি আগের চেয়ে চওড়া?
সিঁথি চওড়া হয়ে যাওয়া বা মাথার কোনো অংশ পাতলা দেখানো চুল পড়ার সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
তবে শুধু দেখে সবসময় নিশ্চিত হওয়া যায় না। সমস্যা বেশি হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
চুল ভেঙে যাওয়া কমাতে কী করবেন?
কিছু সহজ অভ্যাস চুলের ক্ষতি কমাতে সাহায্য করতে পারে:
-
ভেজা চুলে জোরে আঁচড়াবেন না
-
অতিরিক্ত Heat Styling কমিয়ে আনুন
-
চুল ধোয়ার সময় খুব জোরে ঘষবেন না
-
খুব শক্ত করে চুল বাঁধা এড়িয়ে চলুন
-
চুল শুকানোর সময় তোয়ালে দিয়ে জোরে ঘষবেন না
-
চুলের আগার দিকে বাড়তি যত্ন নিন
-
প্রয়োজন অনুযায়ী Hair Mask ব্যবহার করতে পারেন
চুলের প্রয়োজন অনুযায়ী Hair Serum & Oils ব্যবহার করাও দৈনন্দিন যত্নের অংশ হতে পারে।
চুলের যত্নে যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন
হাতে চুল দেখলেই ধরে নেওয়া যে চুল পড়ছে
চুল ভেঙে গেলেও হাতে চুল দেখা যায়। তাই চুলটি কোথা থেকে আলাদা হয়েছে, সেটি দেখুন।
অন্যের যত্নের নিয়ম নিজের চুলে ব্যবহার করা
সবার চুলের ধরন এক নয়। কারও চুল তৈলাক্ত, আবার কারও চুল শুষ্ক। তাই নিজের চুলের প্রয়োজন বুঝে যত্ন নেওয়া উচিত।
চুলের ক্ষতি করার অভ্যাস চালিয়ে যাওয়া
নিয়মিত Heat Styling বা রুক্ষভাবে চুল আঁচড়ানোর অভ্যাস থাকলে শুধু নতুন Product ব্যবহার করলেই চুল ভাঙা বন্ধ নাও হতে পারে।
হ্যাঁ, প্রতিদিন কিছু চুল ঝরে যাওয়া স্বাভাবিক হতে পারে। তবে হঠাৎ করে চুল পড়ার পরিমাণ অনেক বেড়ে গেলে বিষয়টি খেয়াল করা উচিত।
চুল গোড়া থেকে ঝরছে, নাকি মাঝখান বা ডগা থেকে ভেঙে যাচ্ছে, আগে সেটা বোঝার চেষ্টা করুন। কারণ সঠিক সমস্যা বুঝে যত্ন নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।
চুলের যত্ন নিয়ে আরও সহজ টিপস জানতে MOURI ঘুরে দেখুন।
0 comments