নতুন স্কিন কেয়ার পণ্য ব্যবহার করার আগে যেসব বিষয় জানা জরুরি

নতুন স্কিন কেয়ার পণ্য ব্যবহার করার আগে যেসব বিষয় জানা জরুরি

ইনস্টাগ্রামে কোনো ইনফ্লুয়েন্সার একটা সিরামের প্রশংসা করলেন, আর সেদিনই অর্ডার করে ফেললেন। কয়েকদিন পর মুখে র্যাশ, লালচে ভাব। এই প্যাটার্নটা আসলে অনেকের জীবনেই বারবার ঘটে।

সমস্যাটা প্রোডাক্টে না থাকতেও পারে। সমস্যা হতে পারে সেটা ব্যবহার শুরু করার পদ্ধতিতে। নতুন কিছু ট্রাই করার আগে কয়েকটা জিনিস মাথায় রাখলে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।

আগে ছোট করে টেস্ট করে নিন

আমেরিকান একাডেমি অফ ডার্মাটোলজি বলছে, নতুন কোনো পণ্য পুরো মুখে লাগানোর আগে একটা ছোট জায়গায় লাগিয়ে দেখা উচিত। এই ধাপটা অনেকেই স্কিপ করে ফেলেন, কারণ মনে হয় সময়ের অপচয়। কিন্তু এই কয়েকদিনই আসলে বড় একটা এলার্জি বা রিঅ্যাকশন এড়ানোর সুযোগ দেয়।

  • কানের পেছনে বা হাতের কনুইয়ের ভেতরের দিকে অল্প একটু লাগান

  • ৭ থেকে ১০ দিন সেই জায়গায় লাগিয়ে দেখুন

  • এই সময়ে লালচে ভাব, চুলকানি বা র্যাশ না হলে পুরো মুখে ব্যবহার শুরু করুন

একসাথে অনেক নতুন জিনিস শুরু করবেন না

নতুন স্কিন কেয়ার শুরু করার সময় অনেকেই একসাথে সিরাম, ময়েশ্চারাইজার, টোনার সব বদলে ফেলেন। এতে সমস্যা হলে বোঝা কঠিন হয়ে যায় ঠিক কোন প্রোডাক্টের কারণে সমস্যাটা হচ্ছে।

একবারে একটা নতুন প্রোডাক্ট রুটিনে যোগ করাই বুদ্ধিমানের কাজ। কয়েক সপ্তাহ ব্যবহার করে দেখুন ত্বক কেমন সাড়া দিচ্ছে, তারপর প্রয়োজনে আরেকটা যোগ করুন।

পার্জিং আর সাধারণ ব্রেকআউটের পার্থক্য বুঝুন

রেটিনল, ভিটামিন সি বা এসিড-জাতীয় (AHA, BHA) প্রোডাক্ট ব্যবহার শুরু করার পর অনেক সময় প্রথম কয়েক সপ্তাহ ছোট ছোট ব্রণ দেখা দিতে পারে। একে বলে পার্জিং, যেটা ত্বকের ভেতরে জমে থাকা জিনিস দ্রুত উপরে চলে আসার একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

  • সাধারণত ২ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে এটা নিজে থেকেই কমে যায়

  • আগে থেকে ব্রণ হতো এমন জায়গাতেই সাধারণত পার্জিং হয়

  • প্লেইন ময়েশ্চারাইজার বা ক্লেনজারে সাধারণত পার্জিং হয় না, এটা মূলত অ্যাক্টিভ ইনগ্রেডিয়েন্টযুক্ত প্রোডাক্টেই দেখা যায়

  • এর বেশি সময় ধরে চললে বা নতুন জায়গায় ছড়ালে সেটা পার্জিং না হয়ে সত্যিকারের রিঅ্যাকশন হতে পারে

ধীরে ধীরে ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ান

নতুন কোনো অ্যাক্টিভ ইনগ্রেডিয়েন্ট, যেমন রেটিনল বা এসিড-বেসড প্রোডাক্ট শুরু করার সময় প্রথমেই প্রতিদিন ব্যবহার করার দরকার নেই। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার দিয়ে শুরু করে, ত্বক মানিয়ে নিলে ধীরে ধীরে ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ানো যায়। এতে ত্বকের উপর হঠাৎ চাপ কম পড়ে, আর ইরিটেশনের ঝুঁকিও কমে যায়।

ইনগ্রেডিয়েন্ট লিস্ট একবার চোখ বুলিয়ে নিন

প্যাকেজিং সুন্দর বা ব্র্যান্ড জনপ্রিয় বলেই প্রোডাক্ট নিজের ত্বকের জন্য উপযুক্ত হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। আগে কোনো নির্দিষ্ট ইনগ্রেডিয়েন্টে সমস্যা হয়ে থাকলে, নতুন প্রোডাক্ট কেনার আগে সেই ইনগ্রেডিয়েন্ট লিস্টে আছে কিনা একবার দেখে নেওয়া ভালো।জ্বালাপোড়া, তীব্র লালচে ভাব, ফোলাভাব বা তীব্র চুলকানি দেখা দিলে সেটা মৃদু পার্জিং না, বরং প্রোডাক্টের প্রতি রিঅ্যাকশনের লক্ষণ হতে পারে। এমন হলে প্রোডাক্ট ব্যবহার তখনই বন্ধ করে দেওয়া উচিত। কয়েক সপ্তাহ পরও যদি সমস্যা না কমে বা বাড়তে থাকে, তাহলে একজন ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

সংক্ষেপে যা মনে রাখবেন

  • ছোট জায়গায় প্যাচ টেস্ট করে নিন

  • একবারে একটার বেশি নতুন প্রোডাক্ট শুরু করবেন না

  • পার্জিং আর ব্রেকআউটের পার্থক্য বুঝে নিন

  • অ্যাক্টিভ ইনগ্রেডিয়েন্ট ধীরে ধীরে বাড়ান

  • ইনগ্রেডিয়েন্ট লিস্ট দেখে নিন

  • কড়া রিঅ্যাকশন হলে সাথে সাথে বন্ধ করুন

সাধারণ প্রশ্ন

নতুন প্রোডাক্ট প্যাচ টেস্ট করার সময় কতদিন অপেক্ষা করা উচিত?
সাধারণত ৭ থেকে ১০ দিন একটা ছোট জায়গায় লাগিয়ে দেখা উচিত, তাতে কোনো রিঅ্যাকশন না হলে পুরো মুখে ব্যবহার শুরু করা যায়।

পার্জিং কতদিন স্থায়ী হয়?
সাধারণত ২ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে এটা নিজে থেকেই কমে আসে। এর বেশি সময় ধরে চললে ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

সব প্রোডাক্টেই কি পার্জিং হতে পারে?
না। সাধারণত রেটিনল, ভিটামিন সি, AHA বা BHA-এর মতো অ্যাক্টিভ ইনগ্রেডিয়েন্টযুক্ত প্রোডাক্টেই পার্জিং দেখা যায়, প্লেইন ময়েশ্চারাইজার বা ক্লেনজারে সাধারণত হয় না।

নতুন প্রোডাক্ট একসাথে কয়টা শুরু করা উচিত?
একবারে একটার বেশি না শুরু করাই ভালো, এতে কোনো সমস্যা হলে কারণ খুঁজে বের করা সহজ হয়।

পার্জিং আর ব্রেকআউটের মধ্যে সহজে পার্থক্য বোঝার উপায় কী?
পার্জিং সাধারণত যেখানে আগে থেকেই ব্রণ হতো সেখানে হয় এবং কয়েক সপ্তাহে কমে আসে। এর বাইরে নতুন জায়গায় ব্রণ ছড়ালে বা সময়ের সাথে বাড়তে থাকলে সেটা ব্রেকআউট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।


নতুন স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট ট্রাই করাটা মজার একটা ব্যাপার হতে পারে, তবে একটু ধৈর্য আর সচেতনতা রাখলে সেই অভিজ্ঞতাটা আরও নিরাপদ হয়। প্যাচ টেস্ট করা, একটার পর একটা প্রোডাক্ট যোগ করা, আর ত্বকের প্রতিক্রিয়া খেয়াল রাখা, এই ছোট অভ্যাসগুলোই দীর্ঘমেয়াদে ত্বককে সুস্থ রাখে।

MOURI স্কিনকেয়ার কালেকশন ঘুরে দেখতে পারেন, ত্বকের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত পণ্য বেছে নিতে সেখানে সবকিছু গুছিয়ে দেওয়া আছে।

 

0 comments

Leave a comment

Please note, comments need to be approved before they are published.