সুন্দর ত্বক কার না ভালো লাগে? কিন্তু সুন্দর ত্বক মানেই যে অনেক দামি স্কিন কেয়ার পণ্য বা দীর্ঘ রুটিন, এমন ধারণা ঠিক নয়। অনেক সময় প্রতিদিনের কিছু ছোট অভ্যাসই ত্বকের যত্নে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে।
মুখ পরিষ্কার রাখা, সানস্ক্রিন ব্যবহার করা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং নিজের ত্বকের ধরন অনুযায়ী যত্ন নেওয়ার মতো সহজ কিছু অভ্যাস নিয়মিত মেনে চললে ত্বক সুস্থ ও সতেজ রাখতে সাহায্য করতে পারে।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, ত্বক ভালো রাখতে প্রতিদিন কোন ১০টি অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।
১. দিনে দুইবার মুখ পরিষ্কার করুন
দিনের শুরু এবং শেষ, এই দুই সময় মুখ পরিষ্কার করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। সারাদিন বাইরে থাকলে ত্বকে ধুলো, ঘাম, অতিরিক্ত তেল ও ময়লা জমে। আবার রাতে ঘুমানোর সময়ও ত্বকে প্রাকৃতিক তেল তৈরি হয়।
তাই সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর এবং রাতে ঘুমানোর আগে মুখ পরিষ্কার করা ভালো অভ্যাস।
তবে খুব ঘন ঘন মুখ ধোয়ার প্রয়োজন নেই। এতে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে যেতে পারে এবং ত্বক শুষ্ক লাগতে পারে।
নিজের ত্বকের ধরন অনুযায়ী একটি উপযুক্ত ফেসওয়াশ ব্যবহার করুন।
২. বাইরে বের হওয়ার আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন
ত্বকের যত্নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাসগুলোর একটি হলো নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা।
অনেকে শুধু রোদ বেশি থাকলেই সানস্ক্রিন ব্যবহার করেন। কিন্তু দিনের বেলায় বাইরে বের হলে ত্বককে সূর্যের আলো থেকে সুরক্ষা দেওয়া ভালো অভ্যাস।
বাইরে যাওয়ার ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। যদি দীর্ঘ সময় বাইরে থাকেন, তাহলে প্রয়োজন অনুযায়ী আবার ব্যবহার করতে পারেন।
ছোট এই অভ্যাসটি নিয়মিত মেনে চললে ত্বকের যত্ন নেওয়া আরও সহজ হয়ে যায়।
৩. ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখুন
মুখ পরিষ্কার করার পর অনেকের ত্বক টানটান বা শুষ্ক লাগতে পারে। তাই মুখ ধোয়ার পর ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
অনেকে মনে করেন শুধু শুষ্ক ত্বকের জন্য ময়েশ্চারাইজার প্রয়োজন। আসলে সব ধরনের ত্বকেরই আর্দ্রতা দরকার।
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য হালকা ধরনের ময়েশ্চারাইজার আর শুষ্ক ত্বকের জন্য তুলনামূলক ঘন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে।
সবচেয়ে ভালো হয় নিজের ত্বকের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত পণ্য বেছে নিলে।
৪. মুখে বারবার হাত দেওয়া বন্ধ করুন
অজান্তেই আমরা দিনের মধ্যে অনেকবার মুখে হাত দিই। কিন্তু হাতে থাকা ধুলো, ময়লা ও জীবাণু সহজেই ত্বকের সংস্পর্শে চলে আসতে পারে।
বিশেষ করে ব্রণ থাকলে সেটি বারবার স্পর্শ করা বা চেপে ধরার অভ্যাস এড়িয়ে চলুন। এতে ত্বকে দাগ পড়ার বা অস্বস্তি বাড়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।
বাইরে থেকে এসে হাত ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়ার অভ্যাসও ত্বকের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
৫. পর্যাপ্ত পানি পান করুন
ত্বকের যত্ন শুধু বাইরে থেকে নিলেই হয় না। শরীরের ভেতরের যত্নও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পান করলে শরীরের স্বাভাবিক পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে ত্বকও সতেজ অনুভূত হতে পারে।
তবে শুধু বেশি পানি পান করলেই সব ধরনের ত্বকের সমস্যা দূর হয়ে যাবে, এমনটি নয়। সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত ত্বকের যত্নও সমান জরুরি।
৬. পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাস করুন
ব্যস্ততার কারণে অনেকেই নিয়মিত ঘুমাতে পারেন না। কিন্তু শরীরের মতো ত্বকেরও বিশ্রাম প্রয়োজন।
পর্যাপ্ত ঘুম না হলে অনেক সময় ত্বক নিস্তেজ দেখাতে পারে। আবার চোখের নিচে ক্লান্ত ভাবও দেখা দিতে পারে। তাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর চেষ্টা করুন এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন।
ভালো ঘুম শুধু ত্বকের জন্য নয়, পুরো শরীরের সুস্থতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
৭. নতুন পণ্য একসঙ্গে ব্যবহার করবেন না
নতুন স্কিন কেয়ার পণ্য ব্যবহার করার সময় অনেকেই একসঙ্গে কয়েকটি পণ্য রুটিনে যোগ করেন। এতে ত্বকে কোনো অস্বস্তি হলে আসল কারণ খুঁজে বের করা কঠিন হয়ে যায়।
তাই নতুন কোনো পণ্য ব্যবহার করলে আগে সেটি কয়েকদিন ব্যবহার করে দেখুন। ত্বকে মানিয়ে গেলে এরপর প্রয়োজন হলে আরেকটি পণ্য যোগ করুন।
ধীরে ধীরে রুটিন তৈরি করলে ত্বকের পরিবর্তন বুঝতেও সুবিধা হয়।
৮. মেকআপ নিয়ে ঘুমাবেন না
দিন শেষে যত ক্লান্তই লাগুক, মেকআপ না তুলে ঘুমানো ভালো অভ্যাস নয়।
ঘুমানোর আগে প্রথমে মেকআপ পরিষ্কার করুন। এরপর মুখ ধুয়ে প্রয়োজন হলে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
এতে ত্বক পরিষ্কার থাকে এবং পরের দিনের জন্য সতেজ অনুভূত হতে পারে।
৯. নিজের ত্বকের ধরন বুঝে যত্ন নিন
সব মানুষের ত্বক এক রকম নয়। কারও ত্বক তৈলাক্ত, কারও শুষ্ক, আবার কারও ত্বক সহজেই সংবেদনশীল হয়ে যায়।
তাই অন্যের রুটিন দেখে হুবহু অনুসরণ করার বদলে নিজের ত্বকের প্রয়োজন বুঝে যত্ন নেওয়া উচিত।
সঠিক ত্বকের ধরন অনুযায়ী পণ্য নির্বাচন করলে দৈনন্দিন যত্ন নেওয়াও অনেক সহজ হয়ে যায়।
১০. নিয়মিত রুটিন অনুসরণ করুন
ত্বকের যত্নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়মিত থাকা।
একদিন অনেক কিছু ব্যবহার করে কয়েকদিন কিছুই না করার চেয়ে প্রতিদিন একটি সহজ রুটিন অনুসরণ করা বেশি উপকারী।
শুরুতে খুব বেশি ধাপের প্রয়োজন নেই।
সকালে
-
ক্লেনজার
-
ময়েশ্চারাইজার
-
সানস্ক্রিন
রাতে
-
ক্লেনজার
-
ময়েশ্চারাইজার
পরে ত্বকের প্রয়োজন অনুযায়ী ধীরে ধীরে অন্য পণ্য যোগ করতে পারেন।
ত্বক ভালো রাখতে কোন অভ্যাসগুলো এড়িয়ে চলবেন?
ত্বকের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করাও জরুরি। যেমন,
-
ব্রণ চেপে ধরা
-
খুব গরম পানি দিয়ে মুখ ধোয়া
-
অতিরিক্ত স্ক্রাব ব্যবহার করা
-
অন্যের পরামর্শে যেকোনো পণ্য ব্যবহার করা
-
নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার না করা
-
একসঙ্গে অনেক নতুন পণ্য ব্যবহার করা
-
মেকআপ না তুলে ঘুমিয়ে পড়া
ছোট মনে হলেও এসব অভ্যাস অনেক সময় ত্বকের স্বাভাবিক যত্নে বাধা তৈরি করতে পারে।
সাধারণ প্রশ্ন
প্রতিদিন ত্বকের যত্ন নেওয়া কি জরুরি?
হ্যাঁ। প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে ত্বক সুস্থ ও সতেজ রাখতে সাহায্য করতে পারে।
দিনে কয়বার মুখ পরিষ্কার করা উচিত?
সাধারণভাবে সকালে এবং রাতে, দিনে দুইবার মুখ পরিষ্কার করাই যথেষ্ট। তবে আপনার দৈনন্দিন কাজ ও ত্বকের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজন ভিন্ন হতে পারে।
তৈলাক্ত ত্বকে কি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত?
হ্যাঁ। তৈলাক্ত ত্বকেরও আর্দ্রতা প্রয়োজন। তাই নিজের ত্বকের জন্য উপযুক্ত হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা ভালো।
সানস্ক্রিন কি প্রতিদিন ব্যবহার করা দরকার?
দিনের বেলায় বাইরে বের হলে নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা ভালো অভ্যাস। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী আবার ব্যবহার করতে পারেন।
কতদিনে ত্বকের পরিবর্তন দেখা যায়?
এটি ব্যক্তি ও ত্বকের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। তাই দ্রুত ফলের আশা না করে নিয়মিত যত্ন নেওয়া এবং ধৈর্য রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
সুন্দর ত্বক একদিনে পাওয়া যায় না। প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাসই ধীরে ধীরে ত্বকের যত্নে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। তাই নিজের ত্বকের ধরন বুঝে একটি সহজ রুটিন তৈরি করুন এবং নিয়মিত অনুসরণ করুন।
আপনার ত্বকের জন্য উপযুক্ত স্কিন কেয়ার পণ্য খুঁজতে MOURI ঘুরে দেখতে পারেন।
0 comments